শিক্ষকের বাড়িতে পড়তে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী

বগুড়ার নন্দীগ্রামে হাফেজ রুহুল কুদ্দুসের (৫৫) বাড়িতে আরবি পড়তে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রী (১১)।

শিক্ষকের বাড়িতে পড়তে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী
প্রতিকী ছবি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে হাফেজ রুহুল কুদ্দুসের (৫৫) বাড়িতে আরবি পড়তে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রী (১১)।

প্রায় তিন মাস আগে সকালে হাফেজ রুহুল কুদ্দুস অন্য শিশুদের ছুটি দেয়। ওই ছাত্রীকে পড়া ধরার নামে বসতে বলে। অন্য শিশুরা চলে গেলে হাফেজ রুহুল কুদ্দুস মুখে কাপড় গুজে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে হত্যা করা হবে বলে ভয় দেখায় তাকে। এ ভয়ে শিশুটি ধর্ষণের কথা পরিবারের কাউকে বলেনি; হাফেজের বাড়িতে পড়তেও যায়নি।

এ দিকে সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বাবা-মা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক বুঝতে পারেন ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। তার পরামর্শে গত ৪ জুলাই নন্দীগ্রাম হেলথ কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। রিপোর্টে ছাত্রীকে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা উল্লেখ করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ছাত্রীর সহপাঠী, অভিভাবক ও গ্রামবাসীর মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রভাবশালী হাফেজ রুহুল কুদ্দুস ঘটনাটি চাপা দিতে টাকা দিয়ে তার লোকজনকে মাঠে নামায়।

নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার গ্রামের মাতবর এনামুল হক, এসরাক আলী ও জিল্লুর হাজীর এ ঘটনা চাপা দিতে ওই শিশু ছাত্রীর বাবাকে পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ছাত্রীর বাবা এতে রাজি হননি।

শিশুর ফুফু বলেন, তার ভাই একজন ভটভটিচালক। আর হাফেজ বিত্তশালী জোতদার। সে কারণে তার পক্ষে অনেকে ঘটনাটি গোপন করতে চাপ দেয়া হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছেন।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি শওকত কবির জানান, ধর্ষণের শিকার ও ১০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা শিশুর বাবা শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে থানায় ধর্ষক হাফেজ রুহুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ঘটনাকে চাপা দেয়ার চেষ্টায় জড়িত তার ভাতিজা সাকিবুল ও বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া হাফেজকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য শিশুকে শনিবার সকালে হাসপাতালে পাঠানো হবে।

সূত্র যুগান্তর