মানবিক কাজে বাধা প্রদান আওয়ামী লীগের নীতি নয়

বিএনপির ত্রাণকাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।

মানবিক কাজে বাধা প্রদান আওয়ামী লীগের নীতি নয়
(ফাইল ছবি) মানবিক কাজে বাধা প্রদান আওয়ামী লীগের নীতি নয়

বিএনপির ত্রাণকাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এর আগে রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, করোনা মহামারীর মধ্যে গরিব ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। সরকারি দলের এ হামলা অশুভ ইঙ্গিতেরই ইশারা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোথায় কে বাধা দিচ্ছে তা স্পষ্ট করুন, তথ্যপ্রমাণ দিন। অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘মানবিক কাজে বাধা প্রদান আওয়ামী লীগের নীতি নয়।

করোনার উচ্চঝুঁকি বিবেচনায় সরকার কিছু জেলা ও সিটি কর্পোরেশনের সুনির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এসব এলাকার জনসাধারণকে কঠোরভাবে সরকারি নির্দেশনা মেনে ও ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনার এই দুর্যোগে বাংলাদেশে সফররত চীনা বিশেষজ্ঞ টিম সরকারের নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেছেন।

‘তারা নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করার পাশাপাশি জনগণের সচেতনতার অভাবের কথাও বলেছেন।’

ওবায়দুল কাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সবাইকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, এক সেকেন্ডের অবহেলা, হাত ধোয়ার ২০ সেকেন্ডের অলসতা ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সরকার জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে আইসিইউসহ জরুরি সেবা সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনে উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি এ সংকটকালে বেসরকারি উদ্যোগও যোগ করতে পারে নতুনমাত্রা।

তিনি আরও বলেন, নোয়াখালীতে স্থাপিত কোভিড হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্থাপন করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ সিস্টেম।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও টেস্টিং কেপাসিটি এবং চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে ৬০ এর অধিক কেন্দ্রে টেস্ট করা হচ্ছে, প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

এরই মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম সুরক্ষা সামগ্রীসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

এসময় তিনি করোনার লক্ষণ দেখা দিলে গোপন না করে নিকটস্থ কেন্দ্রে পরীক্ষা করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

এর আগে ওবায়দুল কাদের নোয়াখালীতে স্থাপিত কোভিড হাসপাতালের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক মো. আবদুল হামিদের কাছে দুটি আইসিইউ ভেন্টিলেটর হস্তান্তর করেন।

সূএ যুগান্তর