প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আলমকে বিবস্ত্র ও মারধরের মূল হোতা আনছুর গ্রেপ্তার

সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়া কক্সবাজারের চকরিয়ার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আলমকে বিবস্ত্র ও মারধরের মূল হোতা বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা সন্ত্রাসী আনছুর আলমকে অবশেষে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলাটিতে চারজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আলমকে বিবস্ত্র ও মারধরের মূল হোতা  আনছুর গ্রেপ্তার
ফাইল ছবি

সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়া কক্সবাজারের চকরিয়ার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আলমকে বিবস্ত্র ও মারধরের মূল হোতা বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা সন্ত্রাসী আনছুর আলমকে অবশেষে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলাটিতে চারজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রযুক্তির সহায়তা, রাতভর অভিযান তথা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আজ সকাল এগারটার দিকে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর ষাইটমারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম এবং চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মো. হাবিুবর রহমান।

গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়া ঢেমুশিয়ার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সত্তরোর্ধ নুরুল আলমকে বিবস্ত্র ও মারধরের ঘটনায় সরাসরি জড়িত আনছুর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মহেশখালী উপজেলার ষাইটমারা থেকে। সে ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে চলে যায়। এতদিন ধরে সে মহেশখালীর মাতারবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। কিন্তু সে গ্রেপ্তার এড়াতে বার বার স্থান বদল করতে থাকে। অবশেষে প্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

ওসি হাবিব জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিত বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোছাইন বাদী হয়ে থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করেন। গ্রেপ্তার আনছুর আলম মামলার এজাহারনামীয় দুই নম্বর আসামী। এছাড়াও ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িত আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ার এজাহারনামীয় আসামী বদিউল আলমের ছেলে মো. ফারুক, নিজাম
উদ্দিনের ছেলে মো. বেলাল ও বদরখালী ইউনিয়নের এক নম্বর ব্লকের মীর আফজালের ছেলে মো. কায়সার। এ নিয়ে এই মামলায় চারজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, আলোচিত এই ঘটনার অন্যতম আসামী ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আরেজ খাতুন, তার ভাসুর বদিউল আলমসহ আরো যারা আসামী রয়েছে তাদের প্রত্যেককেও গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশের একাধিক ইউনিট তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষভাবে কাজ করছে।

প্রসঙ্গত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রবীণ সদস্য সত্তরোর্ধ নুরুল আলমের ওপর এমন বর্বর ঘটনাটি সংঘটিত হয় গত ২৪ মে উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের তেচ্ছাপাড়া সংলগ্ন সড়কের পাশে বিলের মধ্যে। পরিবার সদস্যদের হেয় করতে বিবস্ত্র করাসহ মারধরের ধারণকৃত ভিডিওচিত্রটি গত ৩ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাসীরা নিজেরাই ছড়িয়ে দেয়। এর পর সেই ভিডিও ভাইরাল হলে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সূএ কালেরকন্ঠ