ধর্মীয় যে জীবন বেছে নিয়েছি সেটা শুধুই শান্তির : অ্যানি খান

উম্মে হাবিবা খান। টিভি পর্দায় অ্যানি খান হিসেবে পরিচিত। অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকের মূখ্য অভিনয়শিল্পী তিনি। জন্ম ময়মনসিংহে হলেও প্লে গ্রুপের পড়া শেষ করেই পরিবারের সঙ্গে ঢাকা চলে এসে নার্সারিতে ভর্তি হন। খুব ছোটবেলাতেই শোবিজ অঙ্গনে পা রেখেছেন।

ধর্মীয় যে জীবন বেছে নিয়েছি সেটা শুধুই শান্তির : অ্যানি খান
(ছবি: সংগৃহীত) ধর্মীয় যে জীবন বেছে নিয়েছি সেটা শুধুই শান্তির : অ্যানি খান

উম্মে হাবিবা খান। টিভি পর্দায় অ্যানি খান হিসেবে পরিচিত। অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকের মূখ্য অভিনয়শিল্পী তিনি। জন্ম ময়মনসিংহে হলেও প্লে গ্রুপের পড়া শেষ করেই পরিবারের সঙ্গে ঢাকা চলে এসে নার্সারিতে ভর্তি হন। খুব ছোটবেলাতেই শোবিজ অঙ্গনে পা রেখেছেন।

ক্যারিয়ারের ২৩ বছর পূর্ণ করেছেন। আকস্মিকভাবেই ফেসবুক লাইভে এসে ঘোষণা দিলেন মিডিয়ায় ছেড়ে দিচ্ছেন। অবশ্য ভক্তদের নিকট ঘোষণাটা আকস্মিক মনে হলেও অ্যানি কিন্তু ধীরে ধীরে মনকে কেন্দ্রীভূত করেছেন। এ নিয়ে কথা বলেছেন 

কেন মিডিয়া ছেড়ে দিলেন, পারিবারিক কোনো চাপ? 
'আসলে আমি দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম মিডিয়া ছেড়ে দেবো।  আমি আসলে ধর্ম চর্চা করতে চাই। ধর্মীয় কাজে মনোযোগী হতে চাই। অনেকেই মনে করছেন এই লকডাউনের কারণে আমার চিন্তায় পরিবর্তন এসেছে, আদতে তা নয়। খুব ধীরে ধীরে মনকে কেন্দ্রীভূত করছিলাম। একটা সময় আমি সফল হয়েছি। তবে লকডাউন আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে।'

মিডিয়া ছেড়ে দিয়ে কী করবেন, ভেবেছেন কী? 
আসলে এক সেকেন্ড পরে আমরা কী করবো তা বলতে পারছি না। এই যে আপনার সঙ্গে কথা বলছি একটু পরে কী হবে বলতে পারছি না। তবে পরিকল্পনা তো থাকে। কিন্তু আমি এখনও কোনো পরিকল্পনা করিনি। এখন ধর্মীয় পড়াশোনা, নামাজ রোজা এসব নিয়েই আমার ভালো সময় কেটে যাচ্ছে। দেখা যাক সামনে অবশ্যই ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি কিছু হয়তো করবো। 

পর্দায় কী একেবারেই আসবেন না?
যদি বলেন বিনোদনের জন্য পর্দায় আসবো কি না তাহলে বলবো আমি আর কখনো মানুষকে বিনোদন দেওয়ার জন্য পর্দায় আসবো না। তবে দেশ ও জনগণের জন্য যদি কোনও কাজে আমাকে প্রয়োজন হয়, মানুষের জন্য যদি উপস্থিত হতে হয়, তাহলে অবশ্যই হবো। মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ তো করতে হবে। দেখেন জুনায়েদ জামশেদ কি ছিলেন? তিনি একজন বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ছিলেন। কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করেন একজন সেলিব্রেটি হয়েই। তিনি সংগীত ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে ইসলামী সংগীত ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি কিন্তু সেলিব্রেটি হয়েই মারা গেছেন। আমার ক্ষেত্রে যদি বলেন, আমিও সুযোগ পেলে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করবো অবশ্যই। তবে বিনোদনমূলক কোনো কাজে আমার সম্পৃক্ততা থাকবে না।

মিডিয়াকে একদম ভুলে যেতে পারবেন? 
মিডিয়াকে ভুলে যাওয়া, না যাওয়ার কোনো প্রসঙ্গ নেই। আমি মিডিয়াকে মিস করবো। ধরেন আজকে শুটিং হচ্ছে আমার সহকর্মীরা শুটিংয়ে যাচ্ছে। আমার খুব ক্লোজ রিক্তা শুটিং করছে, ওর সাথে কথা হলো। হ্যাঁ আমি তাদেরকে মিস করছি। কিন্তু শুটিং করতে পারছি না, এজন্য আমার বিন্দুমাত্র আফসোস নেই। বরঞ্চ আমি যে জীবন বেছে নিয়েছি সে জীবন শুধু শান্তির আর শান্তির, সত্যি বলছি আমি এখন অনেক মানসিক শান্তিতে আছি।

আপনি শুটিং করবেন না, কিন্তু কিছু নেটিজেন আপনার  পুরনো ছবি নিয়ে আপনার ফেসবুকে পোস্ট করছে- এটা কেন হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে আপনার? 
যারা এসব কাজ করছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলার কিছু নেই। তাদের যা মন চায় তারা করুক। তারা আবেগ বোঝে না। কিছু মানুষ এমন হয় কেন, বুঝি না। আমি বলেছি তাদেরকে সেসব পোস্ট না করতে। তারা সেটা না শুনলে বলার কিছু নেই। তবে আমি যে জীবন বেছে নিয়েছি সেটা আসল জীবন আমার। কে কি করছে সেসব নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমি তাদের কাছে অবনত হইনি, শয়তানের কাছে কেউ অবনত হয় না। তবে বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত কিছুটা।

শোনা যাচ্ছে আপনি নাকি সংসারী হচ্ছেন। একটা পত্রিকা দু বছর আগে আপনার বিয়ে প্রসঙ্গে ইন্টারভিউ ছেপেছিল- বলেছিলেন সে বছরই বিয়ে করবেন। আবার গতকাল একটি পত্রিকা বলল আপনি আগামী বছর বিয়ে করতে যাচ্ছেন? 
আসলে সংসারী হবার জন্য শুটিং ছেড়েছি যদি এমন কথা কোথাও বলা হয়, তবে সেটা মোটেও ঠিক নয়। আর বিয়ে প্রসঙ্গে আমি কোথাও নিশ্চিত করে বলিনি। আপনি যদি বলেন, আমাদের পারসোনাল লাইফ বলতে কিছুই নেই তাহলে সেটা ভুল হবে। বিয়েকে আমি মেনশন করবো না। এটা একদম ব্যক্তিগত থাক। যখন বলার প্রয়োজন হবে তখন বলবো।

সর্বশেষ কোনো প্রশ্ন ছাড়া, দুই লাইনে আপনার জীবন সম্পর্কে বলেন, যার অনেকটাই আপনার ভক্তরা জানেন না-
আমি উম্মে হাবিবা খান অ্যানি। ময়মনসিংহে প্লে গ্রুপে পড়েছি। ঢাকায় নার্সারিতে এসে ভর্তি হয়েছি। এরপর আমার জীবনের পুরো সময়টা কেটেছে শান্তিনগর, সিদ্ধেশরীতে- কারণ আমি সিদ্ধেশরী কলেজে পড়েছি। স্ট্যামফোর্ড থেকে বিবিএ, এমবি করেছি। এখন উত্তরায় চলে এসেছি। অভিনয় ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করেছি। আমার জন্য দোয়া করবেন, সকলের কাছে আমি দোয়া প্রার্থী।

সূত্র কালেরকন্ঠ