ছেলেকে নিয়ে যে কারণে গর্বিত অপূর্ব

প্রায় দুই বছর আগে ঈদে প্রচার হয় টেলিছবি ‘বিনি সুতোর টান’। নাটকটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ ছিল তিন বছরের শিশু অভিনেতা আয়াশ। এই খুদে অভিনেতা আর কেউ নয়, সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বের ছেলে।

ছেলেকে নিয়ে যে কারণে গর্বিত অপূর্ব
ফাইল ছবি

প্রায় দুই বছর আগে ঈদে প্রচার হয় টেলিছবি ‘বিনি সুতোর টান’। নাটকটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ ছিল তিন বছরের শিশু অভিনেতা আয়াশ। এই খুদে অভিনেতা আর কেউ নয়, সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বের ছেলে। বাবা–ছেলেকে একসঙ্গে পর্দায় দেখার জন্য ভক্তদের আগ্রহ থাকারই কথা। নাটকটি ২০১৮ সালে ঈদে প্রচারের পর থেকেই বাবা–ছেলের একসঙ্গে অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে। তাঁদের অভিনীত সেই নাটক আজ অনলাইনে কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

ছেলের অভিনীত নাটকটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অভিনেতা অপূর্ব। তিনি বলেন, ‘আয়াশের নাটকটি কোটির ঘরে পৌঁছেছে, এটা খুবই খুশির কথা। আমি আয়াশকে নিয়ে গর্বিত। ওর জন্য ভালোবাসা। আমাদের একসঙ্গে প্রথম অভিনয় করা নাটকটি দর্শক ভালোবেসেছে, এ জন্য খুবই ভালো লাগছে। আমার সব দর্শক, নাটকের পরিচালক শিহাব শাহীন, আমার সহশিল্পীরা, প্রোডিউসার আসিফ ইকবাল, গানচিল এবং নাটকের সঙ্গে যুক্ত সব কলাকুশলীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবার অবদানেই এটি সম্ভব হয়েছে।’ ছেলের অভিনয় নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সে সময় আমি নিজেই অবাক হয়েছি আয়াশের অভিনয় দেখে। গল্পে আমার সংলাপের পর ওর রিঅ্যাকশনগুলো খুবই সুন্দর করে দিয়েছিল। পুরোটা একদমই ন্যাচারাল। ছেলেটা খুবই সুন্দর অভিনয় করে। সত্যিই আমি ওকে নিয়ে গর্বিত।’ এই টেলিফিল্ম ‘গানচিল ড্রামা অ্যান্ড সিনেমা’ ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয়েছিল।

জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও আয়াশ। ছবি সংগৃহীত।

                             জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও আয়াশ। ছবি সংগৃহীত।

এই টেলিছবির মাধ্যমেই হয়েছিল ছোট্ট আয়াশের অভিনয়ের অভিষেক। প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েই সাবলীল অভিনয় করে আয়াশ। আবেগজড়িত কিছু দৃশ্যে আয়াশের অভিনয় মনে রাখার মতো। বাবার কাঁদার সময় বাবাকে জড়িয়ে ধরা, বাবার জন্য বাসা থেকে পালানো। গল্পে তার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম। গল্পে দেখানো হয়, একটি দুর্ঘটনায় আয়াশের মা মারা গেছে। সেই সময় ছোট আয়াশ বাবাকে প্রশ্ন করে, ‘বাবা, মা কোথায় গেছে?’ অপূর্ব উত্তরে বলে, ‘আল্লাহর কাছে।’ আয়াশ পরক্ষণেই ‘কেন গেছে’, প্রশ্ন করে বাবার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। আয়াশের অভিনয়ের এমন অনেক মুহূর্ত দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আয়াশ নাটকটির জন্য সে বছর ‘মেরিল প্রথম আলো’তেও মনোনয়ন পেয়ে যায়। শিহাব শাহীনের পরিচালনায় টেলিফিল্মটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছেলের অভিনয় যেন বাবাকেও ছাড়িয়ে যায়। বাবা–ছেলের রসায়ন পড়তে পড়তে মুগ্ধ করে দর্শকদের।

নাটকটি প্রকাশের পর থেকেই বেশ সাড়া পেতে থাকেন গুণী নির্মাতা শিহাব শাহীন এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গানচিল। ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ব্যাপ্তির কোনো নাটক এই প্রথম কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করল। নাটকের প্রযোজক আসিফ ইকবাল বলেন, ‘মাত্র তিন বছরের শিশুর অভিনীত কোনো টেলিফিল্মের কোটি ভিউ অতিক্রম করাও বাংলাদেশে এই প্রথম। এ টেলিফিল্মের মাধ্যমেই হয়েছিল ছোট্ট আয়াশের অভিনয়ের অভিষেক। ছোট্ট সোনা আয়াশের অভিনয় দেখে হয়তো কেউ অবশিষ্ট নেই, যাঁরা নিজেদের সঙ্গে অদৃশ্য এক মায়াভরা মুগ্ধতার টান অনুভব করেননি।’

আসিফ ইকবাল বলেন, ‘টেলিফিল্মটির বিভিন্ন অংশ নিয়ে নির্মিত হয়েছে হৃদয়ছোঁয়া একটা গান, “আমার জন্যে তুই পৃথিবী”। আমার কথায় অমিত-ঈশানের সুর ও সংগীতে গানটি গেয়েছে ঈশান নিজেই। এর মধ্যে গানটি ইউটিউবে দুই মিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করেছে।’

সূএ প্রথমআলো