ছাতকে বেশি ভাগ এলাকা প্লাবিত,ঘুর্ণিঝড়েও ব্যাপক ক্ষতি

জুনেদ আহমদ(রুনু),ছাতক:: সুনামগঞ্জের ছাতকে বন্যায় বেশি ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।মৌসুমি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশের উপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

ছাতকে বেশি ভাগ এলাকা প্লাবিত,ঘুর্ণিঝড়েও ব্যাপক ক্ষতি
ছবি : banglarkagoj.com ছাতকে বেশি ভাগ এলাকা প্লাবিত,ঘুর্ণিঝড়েও ব্যাপক ক্ষতি

সুনামগঞ্জের ছাতকে বন্যায় বেশি ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।মৌসুমি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশের উপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।র্তমানে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন,বটের খাল নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

যেকোন সময় উপজেলা সদরের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওযার আশংকা রয়েছে। ছাতক শহরের প্রধান সড়ক ছাড়া প্রায় সবকটি সড়কে পানিতে তলিয়ে গেছে। শহরের অলি-গলি, বাসা-বাড়ি ও আঙ্গিনায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শহরবাসী। বড় ধরনের বন্যার আশংকা করছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবনসহ সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের সবকটি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। পানিবন্দি এসব মানুষ বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার নোয়ারাই,কালারুকা,উত্তর খুরমা, জাউয়াবাজার, চরমহল্লা, ছৈলা আফজলাবাদ,দোলার বাজার,ভাতগাও সহ উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নের অনেক ঘরবাড়ি,দোকানপাট বন্যায় প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিত মানুষের জন্য কোন আশ্রয় কেন্দ্র খোলা বা কোন সরকারী বেসরকারী ত্রান সামগ্রী বিতরণের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে শনিবার (২৭জুন) বিকেলে ছাতকে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫৫ সেন্টিমিটার, চেলা নদীর পানি বিপদসীমার ১৬৫ সেন্টিমিটার ও পিয়াইন নদীর পানি ১৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

প্রবল বর্ষণে সুরমা, পিয়াইন ও চেলা নদীতে পাথর ও বালুবাহী বার্জ-কার্গো ও বাল্কহেডে লোডিং-আনলোডিং বন্ধ রয়েছে। বন্যার মধ্যে আকস্মিক ঘুর্নিঝড়ে উপজেলার ধারন বাজার এলাকায় ঘর বাড়ি, দোকানপাট ও গাছপালার ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম কবির, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস শীল, ওসি মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিকালে মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন ঘূর্নিঝড় কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান জানান ঘূর্নিঝড়ে সৈদেরগাও সহ এলাকার ৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার ব্যাপারে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃগোলাম কবির জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বর, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও রাস্তাঘাটে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এখানে প্রবল বন্যার আশংকা করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকা এবং দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।