গৃহবধূকে তিন ভাই মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ!

নরসিংদীর রায়পুরায় স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে এক গৃহবধূকে বাড়িতে ডেকে এনে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ জুলাই উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের কোনাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

গৃহবধূকে তিন ভাই মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ!

নরসিংদীর রায়পুরায় স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে এক গৃহবধূকে বাড়িতে ডেকে এনে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ জুলাই উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের কোনাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলো- পলাশতলীর কোনাপাড়ার হাবিবুর রহমান হবির ছেলে মো. ফারুক মিয়া ঘটক (৪০), হযরত আলীর দুই ছেলে মোবারক (৩২), বোরহান (২৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে জড়িত তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই দিনই ফারুক ঘটক ও তার চাচাতো ভাই মোবারককে আটক করে কারাগারে পাঠায়। অপর আসামি বোরহান পলাতক আছে বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ি উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। ছয় বছর আগে বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার খলিল মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরে স্থানীয় ফারুক ঘটকের মাধ্যমে উপজেলার নবুয়ারচরের ভ্যানচালক মজলু মিয়ার সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এরই জেরে গৃহবধূ তাঁর বাবার বাড়ি চলে যান।

মজলু তাঁর স্ত্রী চলে যাওয়ার বিষয়টি ফারুক ঘটককে জানান। স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব মীমাংসার কথা বলে রাত ৮টায় ওই গৃহবধূকে ফারুক তাঁর বাড়িতে ডেকে আনেন। পরে রাত ১০টায় চাচাতো ভাইয়ের একটি চৌচালা ঘরে গৃহবধূকে নিয়ে যান। সেখানে ফারুক ও তার দুই চাচাতো ভাই মোবারক ও বোরহান রাতভর পালাক্রমে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে।

অভিযুক্ত তিনজনের স্বজনরা জানান, স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব মীমাংসা করে দেওয়ার জন্যই ওই গৃহবধূকে ডেকে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গৃহবধূ জানায়, তিনি স্বামীর  সংসার করবেন না। পরে তিনি চলে যান। তাঁরা আরো জানান, প্রতিবেশী ইকবালকে দশ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর ইন্ধনেই ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ফারুক ও তাঁর দুই চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা দিয়েছে। স্বজনদের দাবি, এ ঘটনায় তিনজনের কেউ জড়িন না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ঘটনা তুলে ধরার দাবি জানান তাঁরা। এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূর পরিবারের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রায়পুরা থানার সেকেন্ড অফিসার দেব দুলাল বলেন, এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আজ শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকেও ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ওই গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আগামীকাল শনিবার নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।

সূএ কালেরকন্ঠ