আসছে বাকিতে পণ্য রপ্তানির সুযোগ ,নীতিমালা জারি

বাকিতে পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এর আওতায় ঋণপত্র ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে পরিশোধ নিশ্চয়তা সাপেক্ষে বাকিতে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবেন রপ্তানিকারক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।

আসছে বাকিতে পণ্য রপ্তানির সুযোগ ,নীতিমালা জারি
ছবি : সংগৃহীত

বাকিতে পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এর আওতায় ঋণপত্র ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে পরিশোধ নিশ্চয়তা সাপেক্ষে বাকিতে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবেন রপ্তানিকারক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।

আজ বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রপ্তানি বাণিজ্য ব্যবস্থায় বিদেশি ক্রেতার ক্রয়াদেশ অনুযায়ী অধিকাংশ রপ্তানি বাণিজ্য ঋণপত্রের পরিবর্তে চুক্তির আওতায় সম্পাদন হয়ে থাকে। তবে রপ্তানিমূল্য প্রাপ্তিতে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নিজেই আর্থিক ঝুঁকি বহন করে থাকে। কিন্তু এখন থেকে বিদেশি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পরিশোধ প্রদানে ব্যর্থ হলে ঝুঁকি গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানিমূল্য পরিশোধ করবে। এজন্য ঝুঁকিগ্রহণকারী  প্রতিষ্ঠানকে চার্জ দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ নীতিমালা অনুযায়ী পন্য রপ্তানি করলে বিদ্যমান চুক্তিপত্রের মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্য ঝুঁকিমুক্ত হবে। একইসঙ্গে রপ্তানি চুক্তির আওতায় ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকও ঝুঁকি মুক্ত থাকবে।

এ বিষয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টরিং কম্পানি, বিদেশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিশোধ নিশ্চয়তা বা পরিশোধ ঝুঁকিবিমা গ্রহণ সাপেক্ষে চুক্তিপত্রের আওতায় বাকিতে পণ্য রপ্তানিকরা যাবে। বিদেশি  আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পরিশোধ প্রদানে ব্যর্থ হলে ঝুঁকি গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান রপ্তানিমূল্য পরিশোধ করবে। পরিশোধ নিশ্চয়তা সংক্রান্ত চুক্তিতে রপ্তানি আয় পরিশোধের নির্ধারিত মেয়াদের আগেই ওই আয়ের অংশ কোনোরকম দায়বদ্ধতা ছাড়াই আগাম পরিশোধের ব্যবস্থা থাকতে পারবে। পরিশোধ নিশ্চয়তা বা পরিশোধ ঝুঁকিবিমা এবং আগাম পরিশোধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বার্ষিক চার্জ বা সুদের হার ছয় মাসের লাইবর + ৩.৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এ নীতিমালা ফ্যাক্টরিং কম্পানি এবং সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সিংয়ের সমন্বয়ে সৃষ্ট এক ধরনের পরিশোধ প্রাপ্তির নিশ্চয়তাসহ রপ্তানি-উত্তর চলতি অর্থায়ন সুবিধার ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে ব্যাক টু ব্যাক দায়ের অংশ বাদ দিয়ে স্থানীয় মূল্য সংযোজন অংশ মেয়াদ পূর্তির পূর্বেই রপ্তানি আয় হিসেবে রপ্তানিকারক পেতে পারবে।

এ বিষয়ে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদি কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের রপ্তানি বিদেশি ক্রেতার ওপর নির্ভরশীল। ফলে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে বাকিতে আমরা পণ্য রপ্তানি করতে বাধ্য হই। তবে চুক্তি পদ্ধতিতে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির সুযোগ আমরা পাই না। ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের প্রয়োজন হয়। নতুন নীতিমালার ফলে রপ্তানিমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এ কথা ঠিক। তবে এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সেইসঙ্গে আমাদের খরচও বাড়বে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বিদেশি উৎসের পরিশোধ নিশ্চয়তা বা ঝুঁকিবিমা থাকা সাপেক্ষে স্থানীয় ব্যাংকগুলোও তাদের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার অব্যহৃত অংশ দিয়ে আগাম পরিশোধের ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সূএ কালেরকন্ঠ